日本語で読む: 日本語版の記事はこちら
কাসাই শহরে হাঁটতে হাঁটতে লাল-সবুজের সঙ্গে আমার অপ্রত্যাশিত দেখা।
জাপানের কাসাই শহরে তখন আমার নতুন জীবন শুরু হয়েছে। চারপাশের সবকিছুই অচেনা—ভাষা, মানুষ, খাবার, রাস্তাঘাট; এমনকি বাতাসের গন্ধটাও যেন আলাদা।
শহর হলেও কাসাইয়ের অনেক জায়গায় একধরনের গ্রামীণ নীরবতা আছে। দূরে পাহাড়, পাশে ধানখেত, ফাঁকা রাস্তা আর সারি সারি পরিপাটি বাড়ি। ব্যস্ততা নেই, মানুষের ভিড় নেই—আছে কেবল শান্তি আর গভীর নিস্তব্ধতা।
সেই বিকেলের হাঁটা
সেদিন কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য ছাড়াই হাঁটতে বেরিয়েছিলাম। নতুন একটি জায়গাকে চেনার জন্য হাঁটার চেয়ে ভালো উপায় আর কী হতে পারে? ধীরে ধীরে পথ চলছিলাম, চারপাশ দেখছিলাম। কখনো কোনো দোকানের সাইনবোর্ড বোঝার চেষ্টা করছি, আবার কখনো অচেনা গাছপালা আর বাড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে ভাবছি—বাংলাদেশ থেকে কত দূরে চলে এসেছি!
হঠাৎ আমার চোখ থেমে গেল।
দূরে যেন পরিচিত দুটি রঙ—সবুজের মাঝে একটি লাল বৃত্ত।
প্রথমে ভাবলাম, হয়তো চোখের ভুল। বিদেশে এসে মন কি তবে নিজের দেশকেই সব জায়গায় খুঁজে বেড়াচ্ছে?
আমি আরেকটু সামনে এগিয়ে গেলাম।
না, চোখের ভুল নয়। ওটা সত্যিই বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা!
এই নির্জন শহরে বাংলাদেশের পতাকা?
কয়েক মুহূর্তের জন্য আমি একেবারে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। মনে শুধু একটি প্রশ্ন—
জাপানের এমন শান্ত, গ্রামঘেঁষা একটি শহরে বাংলাদেশের পতাকা এল কোথা থেকে?
আমার বিস্ময়ের সঙ্গে কৌতূহলও বাড়ছিল। পা দুটি যেন নিজেদের ইচ্ছাতেই পতাকাটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। যত কাছে যাচ্ছি, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে সেই চিরচেনা লাল-সবুজ।
বিদেশের মাটিতে নিজের দেশের পতাকা দেখার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। বাংলাদেশে থাকতে যে পতাকা প্রতিদিন দেখেও হয়তো আলাদাভাবে খেয়াল করিনি, হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে সেই একই পতাকাই মুহূর্তের মধ্যে আমার বুকের ভেতর আলোড়ন তুলল।
মনে হলো, আমি আর একা নই।
এই অচেনা শহরের কোথাও আমার দেশেরও একটি পরিচয় আছে। এখানে কেউ বাংলাদেশকে জানে, কেউ বাংলাভাষী মানুষের কথা ভাবে—এই উপলব্ধিটুকুই যেন কাসাইকে হঠাৎ আমার কাছে অনেকটা আপন করে দিল।
পতাকাটির পেছনে যে ঠিকানা
আরও কাছে গিয়ে জানতে পারলাম, এটি Kasai City Global Center—জাপানি নাম 加西市グローバルセンター।
এটি শুধু বিভিন্ন দেশের পতাকা প্রদর্শনের একটি স্থান নয়। বিদেশি ও জাপানি বাসিন্দাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি করা এবং সবাই যেন নিরাপদে একসঙ্গে বসবাস করতে পারে—সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্রটি কাজ করে।
এখানে বহুভাষিক পরামর্শ, জাপানি ভাষা শেখার সুযোগ, বিদেশি শিশুদের পড়াশোনায় সহায়তা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বিনিময় অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা রয়েছে। সবচেয়ে আনন্দের বিষয়, কেন্দ্রটির বহুভাষিক পরামর্শসেবার তালিকায় বাংলা ভাষাও রয়েছে। কেন্দ্রটির সেবাসমূহ সম্পর্কে তাদের ওয়েবসাইটে বিস্তারিত জানা যায়।
সেদিন বুঝতে পারলাম, পতাকাটি সেখানে শুধু সাজানোর জন্য ছিল না। সেটি ছিল একটি বার্তা—
তুমি যে দেশ থেকেই আসো না কেন, এই শহরে তোমারও একটি স্থান আছে।
কাসাই এখনো আমার ঠিকানা
এই গল্পটি কেবল কাসাইয়ে আসার প্রথম দিনগুলোর একটি পুরোনো স্মৃতি নয়। আমি এখনও কাসাইতেই থাকি। সময়ের সঙ্গে এই শহরের নিরিবিলি পথ, চারপাশের প্রকৃতি আর শান্ত জীবনযাত্রা আমার খুব পছন্দের হয়ে উঠেছে। কাসাই আর আমার কাছে নতুন বা অচেনা নয়—এটি আমার প্রতিদিনের জীবনের অংশ।
আর Kasai City Global Center-এর সঙ্গেও আমার সম্পর্ক সেই প্রথম বিস্ময়ের দিনে শেষ হয়ে যায়নি। কেন্দ্রটির বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও আয়োজন, এবং নানা মানুষের সঙ্গে মিলিত হওয়ার উষ্ণ পরিবেশ আমার খুব ভালো লাগে। প্রতি সপ্তাহান্তেই আমি সেখানে যাই। প্রতিবারই মনে হয়, পৃথিবীর নানা দেশের মানুষকে একে অন্যের কাছে আনার যে বার্তা সেই পতাকাটি দিয়েছিল, কেন্দ্রটি এখনো সেই বার্তাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে চলেছে।
কাসাইকে আরও একটু চেনা
পরে কাসাই সম্পর্কে জানতে গিয়ে বুঝেছি, সেদিনের সেই শান্ত দৃশ্যটি কাসাইয়ের পরিচয়েরই অংশ। এই শহরের মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া Hojo Railway ১৯১৫ সালে যাত্রা শুরু করে। এক লাইনের এই লোকাল রেলপথ মোট ১৩.৬ কিলোমিটার দূরত্বে আটটি স্টেশনকে যুক্ত করেছে। Hojomachi ছাড়া বাকি স্টেশনগুলো জনবলহীন। এক কামরার ছোট ট্রেনটি ধানখেত ও গ্রামীণ প্রকৃতির ভেতর দিয়ে যায়—মনে হয়, সময়ও যেন তার সঙ্গে ধীর হয়ে যায়।
ট্রেনের জানালা থেকে দেখা যায় শস্যক্ষেত্র, নিরিবিলি প্রকৃতি আর Zenbo ও Kasamatsu পাহাড়—যেগুলোকে একসঙ্গে Kasai Alps বলা হয়। পাহাড়ে হাইকিংয়ের পথও আছে। আর Hojōchō এলাকায় রয়েছে ১,৩০০ বছরেরও বেশি পুরোনো Sumiyoshi Shrine, Sagamiji Temple এবং রহস্যময় 500 Rakan পাথরের মূর্তি। পুরোনো post-town ও temple-town হিসেবে গড়ে ওঠা এলাকাটির পথঘাটে হাঁটলে জাপানের পুরোনো সময়ের আমেজ এখনও অনুভব করা যায়।
এসব তথ্য পড়ে সেদিনের হাঁটাটিকে যেন আরও নতুনভাবে দেখতে পারি। যে নীরবতা প্রথমে আমার কাছে নিছক একটি দূরবর্তী গ্রামীণ শহরের নীরবতা মনে হয়েছিল, তার ভেতরেই লুকিয়ে আছে কাসাইয়ের রেলগাথা, ইতিহাস আর মানুষের ভালোবাসা। কাসাই ভ্রমণের আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে Visit HYOGO-এর অফিসিয়াল ভ্রমণ নিবন্ধে।
দূরত্ব ঘুচিয়ে দেওয়া এক মুহূর্ত
একজন প্রবাসীর জীবনে এমন ছোট ছোট মুহূর্তের মূল্য অনেক। নতুন দেশে এসে নিজের পরিচয় বোঝানো, ভাষার বাধা পেরোনো এবং একাকিত্বের সঙ্গে লড়াই করা সহজ নয়। বাইর থেকে সবকিছু সুন্দর ও গোছানো দেখালেও মনের ভেতর মাঝেমধ্যে গভীর শূন্যতা তৈরি হয়।
ঠিক সেই সময় পরিচিত একটি শব্দ, নিজের ভাষায় লেখা একটি বাক্য কিংবা দেশের একটি পতাকা মনে অদ্ভুত সাহস এনে দেয়।
সেদিন বাংলাদেশের পতাকাটির দিকে তাকিয়ে আমার গ্রামের কথা মনে পড়েছিল। মনে পড়েছিল সবুজ ধানখেত, বর্ষার বৃষ্টি, চায়ের দোকানের আড্ডা এবং প্রিয় মানুষগুলোর মুখ। কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হয়েছিল, কাসাই আর বাংলাদেশ—দুই দূর দেশের মাঝখানের বিশাল দূরত্ব যেন হঠাৎ অনেকটাই কমে গেছে।
আমি আবার হাঁটতে শুরু করলাম। রাস্তা একই ছিল, শহরটিও বদলে যায়নি। কিন্তু বদলে গিয়েছিল আমার দেখার চোখ।
কাসাই তখন আর শুধু জাপানের একটি অচেনা শহর ছিল না। এটি হয়ে উঠেছিল এমন একটি শহর, যেখানে পৃথিবীর নানা দেশের মানুষের পাশে বাংলাদেশের জন্যও একটু জায়গা রাখা হয়েছে।
শেষ কথা
আজও সেই দিনের কথা মনে পড়লে চোখের সামনে ভেসে ওঠে শান্ত রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সেই লাল-সবুজ পতাকাটি।
বিদেশের মাটিতে সেটি যেন আমাকে নীরবে বলেছিল—
দেশ অনেক দূরে, কিন্তু তুমি এখানে একা নও।
日本語版
日本の小さなまちで、突然出会った「小さなバングラデシュ」
加西市を歩いていたある日、赤と緑の国旗と思いがけない出会いをしました。
日本の加西市で、私の新しい生活が始まったばかりの頃でした。言葉も、人も、食べ物も、道も、目に入るもののほとんどがまだ見慣れていませんでした。空気の香りさえ、故郷とは違うように感じられました。
加西市には、市でありながら、どこか里山のような静けさがあります。遠くに山、その手前に田畑、人通りの少ない道、そして整然と並ぶ家々。都会の喧騒とは違う、深い静けさと穏やかな時間が流れていました。
あの日の散歩
その日は、特別な目的もなく散歩に出かけました。新しい土地を知るには、自分の足で歩くのが一番です。店の看板を読んでみたり、見慣れない植物や家々を眺めたりしながら、「バングラデシュからずいぶん遠くへ来たんだな」と考えていました。
そのとき、ふと足が止まりました。
遠くに、見慣れた二つの色が見えたのです。緑の中に赤い丸。
最初は見間違いかと思いました。異国で暮らし始めたばかりの心が、どこにでも故郷の面影を探しているのだろうか、と。
しかし、少し近づいてみると、見間違いではありませんでした。 それは本当に、バングラデシュの国旗だったのです。
なぜ、この静かなまちにバングラデシュの国旗が?
私はしばらくその場に立ち尽くしました。頭の中に浮かんだのは、ただ一つの疑問でした。
日本のこんなに静かで穏やかな土地に、どうしてバングラデシュの国旗があるのだろう?
驚きと好奇心に引かれ、私は自然に国旗の方へ歩いていました。近づくほどに、あの懐かしい赤と緑がはっきりと見えてきました。
海外で自分の国の国旗と出会う気持ちは、言葉では簡単に表せません。バングラデシュにいた頃は、日常の中で目にしても特別に意識しなかった国旗が、数千キロ離れた場所では、一瞬で胸の奥を大きく揺らしました。
「ここでも私は一人ではない」。そんな感覚が広がりました。このまちのどこかに自分の故郷の存在があり、バングラデシュを知り、ベンガル語を話す人々のことを考えてくれる誰かがいる。そう思うだけで、加西市が急に身近な場所に感じられました。
国旗の先にあった場所
近づいて分かったのは、そこが 加西市グローバルセンター だということでした。
ここは、ただ各国の国旗を飾るための場所ではありません。外国人住民と日本人住民が互いに理解し合い、誰もが安心して共に暮らせる地域をつくるための場所です。
センターでは、多言語での生活相談、日本語教室、外国にルーツを持つ子どもたちの学習支援、そして文化交流イベントなどが行われています。特に嬉しかったのは、多言語相談の対応言語に ベンガル語 も含まれていることでした。詳細はセンターの サービス案内 で確認できます。
その日、国旗は単なる飾りではなく、一つのメッセージだと気づきました。
どの国から来た人でも、このまちにあなたの居場所があります。
加西市は今も私の暮らすまち
この話は、加西市に来たばかりの頃の、昔の思い出だけではありません。 私は今も加西市に暮らしています。 時間とともに、静かな道、豊かな自然、穏やかな日常が大好きになりました。加西市はもう、新しい場所でも見知らぬ土地でもなく、私の毎日の生活の一部です。
グローバルセンターとの関わりも、あの日の驚きだけで終わりませんでした。センターのさまざまなイベントや、国籍や文化の異なる人たちと出会える温かな雰囲気が好きで、 毎週末、センターに足を運んでいます。 訪れるたびに、あの国旗から感じた「人と人をつなぐ」というメッセージが、ここで今も形になっていると感じます。
加西市をもう少し知る
後に加西市について知るうちに、あの日に見た穏やかな風景こそ、このまちの魅力の一部なのだと分かりました。加西市を走る 北条鉄道 は1915年に開業し、全長13.6キロの区間で8つの駅を結んでいます。北条町駅以外は無人駅で、一両編成の小さな列車が田畑と里山の景色の中を進む姿は、時間までゆっくりと流れているように感じられます。
車窓からは田園風景と、「加西アルプス」と呼ばれる善防山や笠松山を望むことができます。北条町周辺には、1300年以上の歴史を持つ住吉神社、酒見寺、独特な雰囲気を持つ 五百羅漢 などがあります。宿場町、門前町として栄えた街並みを歩くと、日本の古い時代の面影を感じることができます。
こうしたことを知ると、あの日の散歩がまた違った光の中に見えてきます。最初はただの静かな地方都市の景色だと思っていた場所に、鉄道の物語、歴史、そして地域の人々の思いが重なっていました。加西市の観光情報は Visit HYOGOの公式特集記事 でも詳しく紹介されています。
距離を縮めてくれた瞬間
外国で暮らす人にとって、こうした小さな出来事は大きな意味を持ちます。新しい国で自分のことを伝え、言葉の壁を越え、孤独と向き合うことは簡単ではありません。外からはすべてが美しく整って見えても、心の中にふと空白が生まれることもあります。
そんなとき、聞き慣れた言葉、自分の言葉で書かれた一文、そして故郷の国旗が、不思議なほど心に勇気を与えてくれます。
あの日、バングラデシュの国旗を見ながら、故郷の村を思い出しました。緑の田んぼ、雨季の雨、ティーショップでの会話、大切な人たちの顔。その瞬間、加西市とバングラデシュという遠く離れた二つの土地の距離が、ぐっと縮まったように感じました。
そして、私はまた歩き始めました。道も、まちも、何も変わっていません。けれど、私の見え方は変わっていました。
加西市はもう、日本の見知らぬまちではありませんでした。世界のさまざまな国の人たちと並んで、バングラデシュにも居場所が用意されているまちになったのです。
おわりに
今でもあの日を思い出すと、静かな道の先に見えた赤と緑の国旗が目に浮かびます。
異国の地で、その国旗は私にそっと語りかけてくれたようでした。
故郷は遠くても、あなたはここで一人ではありません。
